
চিলাহাটি , ডোমার, নীলফামারী, রংপুর

Md Masum Ahmed
প্রকাশ
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেঠের কামাত চিলাহাটির সাহাপাড়া ক্লিনিকের পাশে অবস্থিত একটি স্বতন্ত্র গ্রামীণ জনপদ। মাটির ঘর, বাঁশের বেড়া, মাটির রাস্তা, বিদ্যুৎবিহীন সরল জীবন ও চারপাশের সবুজ কৃষিজমি মিলে জায়গাটি যেন গ্রামবাংলার পুরোনো দিনের একটি জীবন্ত ছবি।
শেঠের কামাত চিলাহাটির সাহাপাড়া ক্লিনিকের পাশে অবস্থিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী গ্রামীণ জনপদ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামের চেহারা বদলে গেলেও শেঠের কামাত এখনও ধরে রেখেছে পুরোনো গ্রামীণ জীবনের একটি স্বতন্ত্র রূপ। এখানকার ঘরবাড়ি, বেড়া, কৃষিজমি, মাটির রাস্তা এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ মিলিয়ে জায়গাটি যেন গ্রামবাংলার পুরোনো দিনের একটি জীবন্ত ছবি।
শেঠের কামাতের সঙ্গে এখানকার গৃহস্থ ও কৃষিজীবী মানুষের জীবনযাত্রার একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেসব গৃহস্থের জমিতে স্থানীয় প্রজারা চাষাবাদ করেন, তাদের সেই প্রজাদের বসবাসের জায়গা হিসেবেই এই জনপদ গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বসতি এখনও গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার একটি সরল চিত্র তুলে ধরে। এখানকার মানুষের জীবন কৃষিজমি, ফসল ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
শেঠের কামাতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এখানকার ঘরবাড়ি। অধিকাংশ বাড়ি তৈরি করা হয়েছে খড় দিয়ে এবং অনেক বাড়ির চারপাশে রয়েছে বাঁশের তৈরি বেড়া। আধুনিক ইট-সিমেন্টের বাড়ির তুলনায় এসব ঘর আকারে ছোট এবং দেখতে অত্যন্ত সাদাসিধে।
এই ঘরগুলো দেখলে অনেকের শৈশবের গ্রামবাংলার কথা মনে পড়ে যেতে পারে। ছোটবেলায় খাতার পাতায় বা আঁকার খাতায় আমরা যে ধরনের গ্রামের ছবি আঁকতাম ছোট ছোট ঘর, চারপাশে সবুজ মাঠ, মাটির রাস্তা আর গাছপালা শেঠের কামাতের বাস্তব দৃশ্য অনেকটা তেমনই।
শেঠের কামাতের আরেকটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার বসতিতে এখনও বিদ্যুতের সুবিধা নেই। ফলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বাইরে থাকা একটি সরল গ্রামীণ জীবন এখানে চোখে পড়ে।
বিদ্যুৎবিহীন এই জীবনযাত্রা বর্তমান সময়ের মানুষের কাছে যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি এটি গ্রামীণ বাংলাদেশের পুরোনো জীবনধারা ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির একটি বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
শেঠের কামাতের চারপাশজুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ সবুজ কৃষিজমি। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব মাঠের রং ও দৃশ্যও পরিবর্তিত হয়। কখনো সবুজ ফসলে ভরে ওঠে মাঠ, আবার ফসল কাটার পর দেখা যায় খোলা কৃষিজমি।
বাড়িগুলোর চারপাশের সবুজ মাঠ এবং দূর পর্যন্ত বিস্তৃত কৃষিজমি পুরো এলাকাটিকে শান্ত ও মনোরম করে তুলেছে। কৃষিকাজ ও প্রকৃতির এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই শেঠের কামাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
শেঠের কামাতের ভেতর দিয়ে চলে গেছে মাটির তৈরি রাস্তা। পাকা সড়ক ও আধুনিক অবকাঠামোর বাইরে থাকা এই পথগুলো গ্রামটির পুরোনো পরিবেশকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
মাটির রাস্তার দুই পাশে ছোট ছোট ঘর, বাঁশের বেড়া, সবুজ মাঠ এবং কৃষিজমি সব মিলিয়ে এখানে হাঁটলে আধুনিক শহুরে জীবনের ব্যস্ততা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশ অনুভব করা যায়।
শেঠের কামাতকে শুধু একটি সাধারণ গ্রাম হিসেবে দেখলে এর বিশেষত্ব অনেকটাই বাদ পড়ে যায়। এর ঘর, বাঁশের বেড়া, বিদ্যুৎবিহীন বসতি, মাটির রাস্তা এবং চারপাশের কৃষিজমি মিলে এটি গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা জীবনধারার একটি দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি।
আধুনিকতার কারণে দেশের অনেক গ্রামের পুরোনো ঘরবাড়ি ও বসতির ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই দিক থেকে শেঠের কামাতের মতো জনপদগুলো স্থানীয় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রচলিত অর্থে শেঠের কামাত কোনো সাজানো পর্যটনকেন্দ্র নয়। তবে যারা গ্রামবাংলার প্রকৃত জীবন, পুরোনো ধরনের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও শান্ত পরিবেশ দেখতে আগ্রহী, তাদের জন্য জায়গাটি আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
চিলাহাটির কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয় দর্শনার্থীরা সহজেই এখানে এসে গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন। বিশেষ করে ছবি তোলা, গ্রামীণ জীবন পর্যবেক্ষণ এবং প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটানোর জন্য জায়গাটির আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
অবস্থান: চিলাহাটি, ডোমার, নীলফামারী
নিকটবর্তী স্থান: চিলাহাটি সাহাপাড়া ক্লিনিক
