
চিলাহাটি , ডোমার, নীলফামারী, রংপুর

Md Masum Ahmed
প্রকাশ
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট চিলাহাটির কাছাকাছি একটি সবুজ বনাঞ্চল, যা প্রশাসনিকভাবে গোসাইগঞ্জ বিট বা গোসাইগঞ্জ বেত বাগান নামে পরিচিত। বেত-বাঁশের বন, বিভিন্ন গাছপালা ও বুড়ি করতোয়া নদীর সান্নিধ্যের কারণে এটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয়।
শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত একটি সবুজ ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। স্থানীয়ভাবে এটি গোসাইগঞ্জ বেত বাগান বা গোসাইগঞ্জ বিট নামেও পরিচিত। শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানের পাশেই এর অবস্থান হওয়ায় স্থানীয়ভাবে অনেকের কাছে এটি শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট নামে পরিচিত।
বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি, বেত ও বাঁশঝাড়, বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, পাখির ডাক এবং পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি করতোয়া নদীর কারণে স্থানটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয়। চিলাহাটি ও আশপাশের দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের সময় প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় স্থান।
শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট মূলত ডোমার বন বিভাগের আওতাভুক্ত একটি বনাঞ্চল। প্রশাসনিকভাবে এটি গোসাইগঞ্জ বিট হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে বেতগাছের আধিক্যের কারণে এলাকাটি গোসাইগঞ্জ বেত বাগান নামেও পরিচিত।
ডোমার বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন বন বিটের মধ্যে গোসাইগঞ্জ বিট অন্যতম। স্থানীয় পরিবেশ ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই বনাঞ্চলটির গুরুত্ব রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট বা গোসাইগঞ্জ বিটের মোট আয়তন প্রায় ১৫০ একর। বনাঞ্চলটির দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি বন বিভাগের কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখানে প্রায় ৫ জন সরকারি কর্মচারী দায়িত্বে রয়েছেন। বনসম্পদ রক্ষা, গাছপালার পরিচর্যা এবং বনাঞ্চলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তাদের ভূমিকা রয়েছে।
শব্দিগঞ্জ ফরেস্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে বিভিন্ন ধরনের বনজ ও অর্থনৈতিক গাছপালার উপস্থিতি। এর মধ্যে বেতগাছ উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া বনাঞ্চলে দেখা যায়—
সারি সারি গাছ ও বেত-বাঁশের ঝাড় পুরো এলাকাটিকে সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করেছে।
শব্দিগঞ্জ ফরেস্টের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শান্ত ও নিরিবিলি। চারপাশের সবুজ গাছপালা, বেত ও বাঁশঝাড় এবং বিভিন্ন পাখির ডাক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
শহর বা ব্যস্ত বাজার এলাকার কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মধ্যে কিছু সময় কাটাতে চাইলে জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। বিশেষ করে শীত ও বসন্তের সময় সবুজ পরিবেশ উপভোগ করতে এখানে ঘুরে আসা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, এই বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ছোট বন্যপ্রাণী দেখা যায়। এর মধ্যে বেজি, সজারু, খরগোশ, শিয়াল ও বানরের কথা স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া মাঝে মাঝে হনুমান দেখা যাওয়ার কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়। তবে এসব বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নিয়মিত বা স্থায়ীভাবে রয়েছে—এমন তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এখানে আরও বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
শব্দিগঞ্জ ফরেস্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর কাছ দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি করতোয়া নদী। ফলে এখানে একই ভ্রমণে বনাঞ্চলের সবুজ পরিবেশ এবং নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে।
বন ও নদীর এই সমন্বিত প্রাকৃতিক পরিবেশ শব্দিগঞ্জ ফরেস্টকে চিলাহাটি এলাকার অন্যান্য স্থান থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
শব্দিগঞ্জ ফরেস্টকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হলে এটি চিলাহাটি ও ডোমার অঞ্চলের একটি আকর্ষণীয় প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটকদের জন্য হাঁটার পথ, বসার জায়গা, তথ্যকেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় নিরাপদ সুবিধা তৈরি করা গেলে স্থানীয় মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যটনও বিকশিত হতে পারে।
তবে পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে বন ও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শব্দিগঞ্জ ফরেস্টের মতো বনাঞ্চল শুধু পর্যটনের জন্য নয়, স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। গাছপালা ও বনজ সম্পদ রক্ষা করা এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা বা বনভূমির ক্ষতি প্রতিরোধ করা জরুরি।
স্থানীয়ভাবে বনাঞ্চল থেকে গাছ চুরি ও বনসম্পদ ক্ষতির অভিযোগের কথাও জানা যায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে বন বিভাগের নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চিলাহাটি ভ্রমণে যারা ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানের পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট একটি সম্ভাবনাময় স্থান।
এখানে বিস্তীর্ণ সবুজ বনাঞ্চল, বেত ও বাঁশঝাড়, বিভিন্ন গাছপালা এবং বুড়ি করতোয়া নদীর সান্নিধ্য—সব মিলিয়ে একটি শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ পাওয়া যায়।
শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানের কাছাকাছি হওয়ায় একই ভ্রমণে দুটি স্থান ঘুরে দেখাও সম্ভব।
শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত। প্রাপ্ত স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার।
চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে এসে স্থানীয় যানবাহনের মাধ্যমে শব্দিগঞ্জ এলাকায় যাওয়া যায়। শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানকে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ল্যান্ডমার্ক হিসেবে ব্যবহার করেও বনাঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব।
ভ্রমণের আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে বর্তমান রাস্তার অবস্থা ও প্রবেশের উপযুক্ত পথ জেনে নেওয়া ভালো।
শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট ভ্রমণের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক। শীতের মৌসুমে আবহাওয়া সাধারণত মনোরম থাকায় বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করা সহজ হয়।
সকাল বা বিকেলের সময় এখানে ঘুরতে গেলে গরম কম থাকে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।
শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট একটি বনাঞ্চল। তাই ভ্রমণের সময় পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়। গাছপালা নষ্ট করা, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা বা বনাঞ্চলে উচ্চ শব্দ করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
বনাঞ্চলের নির্জন এলাকায় একা না গিয়ে স্থানীয়ভাবে পরিচিত পথ ব্যবহার করা এবং বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলা নিরাপদ।
অবস্থান: শব্দিগঞ্জ, ভোগডাবুড়ি ইউনিয়ন, ডোমার উপজেলা, নীলফামারী।
শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানের পাশেই বনাঞ্চলটির অবস্থান বলে স্থানীয়ভাবে এটি শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট নামে পরিচিত। প্রশাসনিকভাবে এটি গোসাইগঞ্জ বিট/গোসাইগঞ্জ বেত বাগান নামে পরিচিত।





