
চিলাহাটি , ডোমার, নীলফামারী, রংপুর

Md Masum Ahmed
প্রকাশ
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শব্দিগঞ্জ শাহী ঈদগাহ উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম ঈদগাহ, যা ১৭১২ সালে প্রতিষ্ঠিত। ৫১ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত এই ময়দানে প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার মুসল্লি একসাথে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দান নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের শব্দিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ ঈদগাহ ময়দান। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য, বিশাল পরিসর এবং ঈদের দিনে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগমের কারণে এটি চিলাহাটি ও আশপাশের এলাকার একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।
ময়দান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৭১২ সাল থেকে এখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। অর্থাৎ তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই স্থানটি স্থানীয় মুসলিম সমাজের ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে যুক্ত।
শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। ময়দান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭১২ সালে এখানে ঈদের জামাত শুরু হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় মানুষ এই ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন।
সময়ের সঙ্গে মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ময়দানটির পরিসরও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এটি প্রায় ৫১ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানের অন্যতম আকর্ষণ হলো ঈদের দিনের বিশাল জামাত। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখানে একসঙ্গে ৬০ হাজারের বেশি মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন।
২০২২ সালের প্রতিবেদনে ময়দানে ৭৬টি কাতার এবং প্রতি কাতারে প্রায় ৫০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। পরবর্তী ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে প্রায় ৮০টি কাতার এবং প্রতি কাতারে প্রায় ৬০০ জন মুসল্লির ধারণক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে ময়দানের ব্যবস্থাপনা ও ধারণক্ষমতায় পরিবর্তন হয়েছে।
শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে শুধু স্থানীয় মুসল্লিরাই নামাজ আদায় করেন না। ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বড়শশি ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরাও ঈদের জামাতে অংশ নেন।
ঈদের দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের আগমন ময়দানটিকে একটি বড় ধর্মীয় মিলনস্থলে পরিণত করে। দীর্ঘদিন পর আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজন ও এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ায় ঈদের আনন্দও এখানে একটি সামাজিক পরিবেশের রূপ নেয়।
শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দান শুধু ঈদের নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গেও জড়িত।
তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসার দাবি এই স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়েছে। ঈদের দিন বিপুল মানুষের একসঙ্গে নামাজ আদায়ের দৃশ্য এবং পরবর্তী সামাজিক মিলনমেলা স্থানীয় সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
চিলাহাটি ও ডোমার অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানতে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দান একটি ব্যতিক্রমী স্থান। প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য, বিশাল মাঠ এবং বৃহৎ ঈদ জামাতের কারণে এটি সাধারণ ঐতিহাসিক স্থাপনার চেয়ে ভিন্ন ধরনের দর্শনীয় স্থান।
বিশেষ করে ঈদের সময় এখানে গেলে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বড় জামাতের দৃশ্য দেখা যায়। তবে এটি একটি সক্রিয় ধর্মীয় স্থান হওয়ায় দর্শনার্থীদের স্থানীয় ধর্মীয় পরিবেশ ও নিয়মকানুনের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
ঈদের দিন সকাল থেকেই শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা এসে নির্ধারিত কাতারে অবস্থান নেন। বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
এত বড় সমাগমের কারণে ঈদের দিনে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
চিলাহাটি ও আশপাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণের সময় শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানকে ভ্রমণ তালিকায় রাখা যেতে পারে। চিলাহাটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে এসে স্থানীয় যানবাহনের মাধ্যমে ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের শব্দিগঞ্জ এলাকায় যাওয়া যায়।
শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দান ভ্রমণের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় সাধারণভাবে আরামদায়ক। তবে এই স্থানটির সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন হলো ঈদের জামাত। তাই বিশাল ঈদ জামাতের পরিবেশ দেখতে চাইলে ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার সময় ভ্রমণ করা যেতে পারে।
শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ একটি ধর্মীয় স্থান। তাই এখানে ভ্রমণের সময় শালীন পোশাক পরিধান করা এবং ধর্মীয় পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
ঈদের দিনে অতিরিক্ত ভিড় হতে পারে। ফলে শিশু ও বয়স্কদের সঙ্গে নিয়ে গেলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা ভালো। নামাজ বা ধর্মীয় কার্যক্রম চলাকালে ছবি তোলা বা চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবেশ ও আয়োজকদের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
**অবস্থান:**চিলাহাটি থেকে উত্তর দিকে গোসাইগঞ্জ বাজার থেকে প্রায় ১.৫ কি.মি পশ্চিমে। স্থানীয় যানবাহনে গেলে প্রায় ৩০-৫০ টাকা লাগবে।





