
কাঁঠালতলী বাজার, কাঁঠালতলী বাজারের পশ্চিমে

প্রকাশ: ২৪ সেপ, ২৬
পঞ্চনীল রহমানিয়া নূরুল উলুম জামিরিয়া মাদ্রাসা চিলাহাটি অঞ্চলের একটি কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের প্রথম রমজানে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলেম, দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পঞ্চনীল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে দ্বীনি শিক্ষার প্রসার এবং একটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত একজন আলেমের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের ঐতিহ্যবাহী কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তিনি একটি বৃহৎ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আলেম ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়।
২০২১ সালের প্রথম রমজানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থী, অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
একটি স্থায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য জমি সংগ্রহ ছিল পঞ্চনীল মাদ্রাসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকজন আলেম, দাতা ও শুভানুধ্যায়ী জমি সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এ ক্ষেত্রে মাওলানা নূরুল আলম সফিক সাহেব এবং হাজি জলাল উদ্দিন সাহেবের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের পাশাপাশি অন্যান্য সহযোগীর অবদানেও প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি সংগ্রহের উদ্যোগ এগিয়ে যায়। বক্তার বর্ণনা অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ে জমি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির জমির পরিমাণ প্রায় ছয় বিঘায় পৌঁছায়।
এই জমি সংগ্রহের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান তৈরি এবং একটি স্থায়ী শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পঞ্চনীল মাদ্রাসার নামকরণ ও পূর্ণাঙ্গ নামের তাৎপর্য সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির বক্তব্যে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণ নাম হিসেবে রহমানিয়া নূরুল উলুম জামিরিয়া মাদ্রাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বক্তার ব্যাখ্যায়, ‘জামিরিয়া’ নামটি আল্লামা জামির উদ্দিন নানুপুরী হুজুরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর ইলমি ঐতিহ্য ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি সম্মান প্রকাশের উদ্দেশ্যে এই নামের ব্যবহার করা হয়েছে বলে বক্তব্য বলা হয়
পঞ্চনীল মাদ্রাসার প্রধান লক্ষ্য দ্বীনি শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের ইসলামী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করা। প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির বক্তব্যে নূরানি, নাজেরা ও হিফজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার সুযোগ তৈরির প্রচেষ্টাও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের লক্ষ্য হলো, শিক্ষার্থীরা যেন প্রাথমিক কোরআন শিক্ষা থেকে পর্যায়ক্রমে উচ্চতর ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়।
প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বিভাগ, পাঠ্যক্রম, বোর্ড-সম্পৃক্ততা এবং উচ্চতর শিক্ষার স্বীকৃতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করে প্রকাশ করা উচিত।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী, পঞ্চনীল মাদ্রাসায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে আসে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, বৃহত্তর পরিসরেও দ্বীনি শিক্ষার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।
সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসংখ্যা প্রায় ৪৫০-এর বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা-পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে প্রায় ২১ জনের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আবাসন, শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২০০–৩০০ জনের আবাসিক সুবিধার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। ফলে সব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা এখনও কঠিন।
আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ এবং উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পঞ্চনীল মাদ্রাসার পরিচালনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী, মাদ্রাসাটি মূলত জাকাত, ফিতরা এবং ব্যক্তিগত অনুদানের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা সংগ্রহ করে।
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রমজান মাসে দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে সহায়তা সংগ্রহ করেন। এই অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তবে সীমিত অর্থায়নের কারণে সব শিক্ষার্থীর আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে নিয়মিত সহযোগিতা ও পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চনীল মাদ্রাসার প্রতিনিধির বক্তব্যে ভবিষ্যতে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার পরিসর সম্প্রসারণের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আর্থিক সহযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চনীল রহমানিয়া নূরুল উলুম জামিরিয়া মাদ্রাসার ইতিহাস দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, সম্মিলিত উদ্যোগ এবং স্থানীয় ও বৃহত্তর পরিসরের সহযোগিতার একটি চলমান অধ্যায়। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী, আবাসন ও অবকাঠামোগত চাহিদা মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
আলেম, শিক্ষক, দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পাদকীয় নোট: এই পরিচিতি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সাক্ষাৎকারের বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
২০২১ সালের প্রথম রমজানে পঞ্চনীল রহমানিয়া নূরুল উলুম জামিরিয়া মাদ্রাসার যাত্রা শুরু হয়। দ্বীনি শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু করা হয়।
আলেম, দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় মাদ্রাসার জন্য জমি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি করে।
নূরানি, নাজেরা ও হিফজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দ্বীনি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের ইসলামী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যও রয়েছে।








