
খানকায়ে কারামাতিয়া শরীফ, চিলাহাটি বাজারের পশ্চিমে থানা বাজার থেকে ১ কি.মি দক্ষিণে

প্রকাশ: ২৫ সেপ, ২৬
চিলাহাটির শিক্ষা ইতিহাসে স্থানীয় উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে খানকায়ে কারামতিয়া শরীফ মদিনাতুল উলুম আব্দুর রব দাখিল মাদ্রাসা একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান। নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি এলাকায় অবস্থিত এই মাদ্রাসাটি ইসলামী শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয় ১ জানুয়ারি ১৯৯৪ সালে।
চিলাহাটি ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষার মান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যে প্রয়োজনীয়তা ছিল, সেখান থেকেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, এলাকার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ইসলামী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রয়াত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের উদ্যোগ, পরিশ্রম এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়।
প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে সহযোগিতা করেন। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগ একটি পূর্ণাঙ্গ দাখিল মাদ্রাসার রূপ নেয় এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামো সম্প্রসারিত হতে থাকে।
মাদ্রাসাটি চিলাহাটি বাজার থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে, ভাইলাগঞ্জ রোডের থানা বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে এবং চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। সরকারি বর্ণনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশকে মনোরম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিলাহাটির স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য কাছাকাছি একটি ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে এটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় সহযোগিতায় ধীরে ধীরে মাদ্রাসাটির অবকাঠামো গড়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪–১৫ অর্থবছরে শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় একটি বড় শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষটি প্রায় ১৩০ ফুট দীর্ঘ ও ২০ ফুট প্রশস্ত।
এছাড়া সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন সংস্থা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণও পেয়েছে। এসব সহায়তা মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যভান্ডারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য স্থানীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলীর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশিত শ্রেণিভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসাটিতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে এবং ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থীই এখানে পড়াশোনা করে। শ্রেণিভেদে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ভিন্ন হলেও উচ্চতর শ্রেণিগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
সরকারি তথ্যভান্ডারে প্রতিষ্ঠানটির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৫০ জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠার কয়েক দশকের মধ্যে মাদ্রাসাটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দাখিল পরীক্ষার ফলাফল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের ফলাফলে পাসের হার ছিল—
এই তথ্যগুলো থেকে দেখা যায়, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ফলাফলে বছরভেদে পরিবর্তন থাকলেও ২০২১ ও ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির দাখিল পরীক্ষার পাসের হার ৯৬ শতাংশের বেশি ছিল।
মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার তথ্যও রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে পঞ্চম শ্রেণির একজন এবং ২০১৯ সালে পঞ্চম শ্রেণির তিনজন শিক্ষার্থী শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কর্মজীবনের তথ্যেও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হওয়ার চিত্র পাওয়া যায়। প্রকাশিত তালিকায় প্রকৌশলী, প্রভাষক, চিকিৎসক, অ্যাডভোকেট, পুলিশ সদস্য ও সেনাবাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত সাবেক শিক্ষার্থীদের নাম রয়েছে।
এ তালিকায় মোঃ আরিফুজ্জামন, মোঃ আবু মুছা, মোঃ মোহাম্মদ আলী, মোঃ হাসিবুল ইসলাম, মোঃ নূর আলম, মোঃ রেজওয়ান আহম্মেদ, মোঃ তারেকুজামান এবং মোঃ তোরাব আলী-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের কর্মক্ষেত্র হিসেবে প্রকৌশল, শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পুলিশ, বেসরকারি চাকরি ও সামরিক পেশার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় পরিচালনা কমিটিরও ভূমিকা রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কমিটিতে সভাপতি, বিদ্যুৎসাহী সদস্য, অভিভাবক সদস্য, শিক্ষক প্রতিনিধি, মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি এবং সদস্য সচিবসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে।
প্রকাশিত তালিকায় মোঃ মহব্বত হোসেন বাবু-কে সভাপতি এবং সৈয়দ মাসরুব আল মাসুম-কে সদস্য সচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধিদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকার তথ্য রয়েছে।
চিলাহাটির শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। খানকায়ে কারামতিয়া শরীফ মদিনাতুল উলুম আব্দুর রব দাখিল মাদ্রাসা সেই ধারার একটি প্রতিষ্ঠান, যার যাত্রা শুরু হয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ে ইসলামী শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজন থেকে।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি এবং দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে চিলাহাটির শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা, শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির প্রচেষ্টা এবং সরকারি বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে।
আজকের চিলাহাটির শিক্ষা-পরিমণ্ডলকে বুঝতে গেলে তাই এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের ইতিহাসও স্থানীয় শিক্ষার ধারাবাহিকতার একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
প্রতিষ্ঠানের নাম: খানকায়ে কারামতিয়া শরীফ মদিনাতুল উলুম আব্দুর রব দাখিল মাদ্রাসা
প্রতিষ্ঠার তারিখ: ১ জানুয়ারি ১৯৯৪
প্রতিষ্ঠানের ধরন: দাখিল মাদ্রাসা
অবস্থান: চিলাহাটি, ডোমার, নীলফামারী
চিলাহাটি বাজার থেকে দূরত্ব: প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে
মোট শিক্ষার্থী: ৪৫৫ জন (প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী)
২০২২ সালের পাসের হার: ৯৬.৮৭%
প্রধান অবকাঠামোগত উন্নয়ন: ২০১৪–১৫ অর্থবছরে ১৩০ ফুট × ২০ ফুট শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ
তথ্যসূত্র: ডোমার উপজেলা, নীলফামারী-এর সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত তথ্য।
২০১৪–১৫ অর্থবছরে শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রায় ১৩০ ফুট দীর্ঘ ও ২০ ফুট প্রশস্ত একটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়।
২০২১ সালে দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল ৯৭.৪৩%।