
Md Masum Ahmed
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৫:২২ এএম

১৯৬৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় প্রবল বৃষ্টি ও তিস্তা নদীর পানির বৃদ্ধিতে জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে জনজীবন, কৃষি ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। প্রবল বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং তিস্তা নদীর পানির ব্যাপক বৃদ্ধির ফলে এই বন্যা দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। এটি জলপাইগুড়ির ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
অক্টোবরের শুরুতে সিকিম, দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হয়। পাহাড়ি এলাকার অতিরিক্ত পানি তিস্তা নদীতে নেমে আসায় নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়।
৪ অক্টোবর গভীর রাতে তিস্তার পানি জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে। নদীর বাঁধের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেঙে যাওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
বন্যার পানিতে জলপাইগুড়ি শহরের পাশাপাশি দোমহানি, ময়নাগুড়ি এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু বসতবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যায়।
কৃষিক্ষেত্রেও এই বন্যার প্রভাব ছিল ব্যাপক। পানিতে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েন। একই সঙ্গে বাজার ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
প্রবল স্রোত ও বন্যার পানির কারণে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়। অনেক জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এই বন্যা উত্তরবঙ্গের নদী ও যোগাযোগ অবকাঠামোর দুর্বলতাও স্পষ্ট করে দেয়। তিস্তা নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ, বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ এবং বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে আসে।
১৯৬৮ সালের জলপাইগুড়ির বন্যা শুধু একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগই ছিল না; এটি উত্তরবঙ্গের নদী, কৃষি, যোগাযোগ ও জনজীবনের পারস্পরিক সম্পর্কও স্পষ্ট করে দিয়েছিল। তিস্তা অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য এই বন্যার স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে রয়ে গেছে।