
চিলাহাটি , ডোমার, নীলফামারী, রংপুর

Md Masum Ahmed
প্রকাশ
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চিলাহাটি–হলদিবাড়ি সীমান্ত রেল সংযোগ দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ২০২০ সালে পুনরায় চালু হয়। বাংলাদেশ গেট ও ইন্ডিয়ান গেটসহ ঐতিহাসিক এই সীমান্ত রেলপথ বর্তমানে চিলাহাটির ইতিহাস ও পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ।
বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার চিলাহাটি এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার হলদিবাড়িকে সংযুক্ত করেছে একটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক রেলপথ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হওয়া এই রেল সংযোগ দুই দেশের পুরোনো রেল যোগাযোগের ইতিহাসকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
চিলাহাটি–হলদিবাড়ি সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে নির্মিত বাংলাদেশ গেট এবং ভারতের পাশে থাকা ইন্ডিয়ান গেট এই আন্তর্জাতিক রেল সংযোগের দৃশ্যমান প্রতীক। সীমান্তের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রবেশদ্বারগুলো বর্তমানে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ আমলে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চিলাহাটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছিল। চিলাহাটি ও হলদিবাড়ির মধ্যকার রেলপথ তৎকালীন বৃহত্তর রেল নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
এই রেলপথ দিয়ে তৎকালীন সময়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন চলত। ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিবরণে এই অঞ্চলের রেলপথ দিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াতের কথাও পাওয়া যায়। ফলে চিলাহাটি–হলদিবাড়ি রেল সংযোগ শুধু যোগাযোগের মাধ্যম ছিল না; এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত।
১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় চিলাহাটি–হলদিবাড়ি রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের এই সরাসরি রেল সংযোগ আর চালু ছিল না।
প্রায় ৫৫ বছর পর বাংলাদেশ ও ভারতের উদ্যোগে পুরোনো রেলপথটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন পর চিলাহাটি আবার ভারতের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট হিসেবে নতুন গুরুত্ব লাভ করে।
দীর্ঘ বিরতির পর ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ সালে চিলাহাটি–হলদিবাড়ি রেল সংযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু হয়। প্রথম পর্যায়ে এই রুটে মালবাহী ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে দুই দেশের রেল যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে এই রেলপথকে যাত্রী ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঐতিহাসিক এই রেল সংযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় চিলাহাটি ও আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে এটি নতুন আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
চিলাহাটি–হলদিবাড়ি সীমান্তের দুই পাশে নির্মিত প্রবেশদ্বার দুটি এই আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগের অন্যতম দৃশ্যমান নিদর্শন।
বাংলাদেশের অংশে থাকা বাংলাদেশ গেট সীমান্ত রেল সংযোগের প্রবেশপথকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। অপরদিকে ভারতের অংশে রয়েছে ইন্ডিয়ান গেট। দুই দেশের সীমান্তে পাশাপাশি থাকা এই স্থাপনাগুলো চিলাহাটি–হলদিবাড়ি রেলপথের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরে।
বিশেষ করে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার পর বাংলাদেশ অংশের গেটটি স্থানীয়ভাবে একটি পরিচিত দর্শনীয় স্থানে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
চিলাহাটি–হলদিবাড়ি রেল সংযোগ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের উত্তরবঙ্গের যোগাযোগকে আরও সহজ করার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক রেল যোগাযোগের সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।
ভবিষ্যতে এই রেলপথের মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংযোগের বাস্তব ব্যবহার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি, রেল পরিচালনা ও চুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
চিলাহাটি–হলদিবাড়ি সীমান্ত রেল সংযোগ চালু হওয়ার পর সীমান্ত এলাকার প্রতি স্থানীয় মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ গেট, সীমান্তবর্তী রেলপথ এবং আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে অনেকেই সেখানে যেতে আগ্রহী হচ্ছেন।
ঐতিহাসিক রেলপথ, আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নতুন নির্মিত প্রবেশদ্বার—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে চিলাহাটির পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।
স্থানীয়ভাবে এই এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলার প্রত্যাশাও রয়েছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ দর্শনস্থান, বসার ব্যবস্থা, তথ্যকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে এটি চিলাহাটির অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হতে পারে।
চিলাহাটি ভ্রমণের সময় যারা রেলপথ, সীমান্ত ও ইতিহাসে আগ্রহী, তাদের জন্য বাংলাদেশ গেট ও চিলাহাটি–হলদিবাড়ি সীমান্ত এলাকা আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে এটি একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং অনুমতি ছাড়া সীমান্তের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ না করা জরুরি।
