Nav-logo
Md Masum Ahmed

Md Masum Ahmed

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৬:১২ পিএম

শিল্পী জি এম এ রাজ্জাক

শিল্পী জি এম এ রাজ্জাক

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

জি এম এ রাজ্জাক ছিলেন বাংলাদেশের একজন চিত্রশিল্পী, শিল্প নির্দেশক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশ টেলিভিশনে দীর্ঘদিন শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সরাসরি অংশগ্রহণ তাঁকে দেশের শিল্প ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।

জীবনতথ্য

জন্ম

১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯

মৃত্যু

২ মার্চ, ২০২২

জন্মস্থান

চিলাহাটি, নীলফামারী

পেশা

বীর মুক্তিযোদ্ধা, চিত্রশিল্পী

শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী

মুক্তিযোদ্ধা

শিল্পী জি এম এ রাজ্জাক

পরিচিতি

চিত্রশিল্পী

বিজয় সরণি ফোয়ারা-র মূল নকশাকার

জীবনী

বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে যাঁরা শিল্পচর্চার পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সময় ও ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, শিল্পী জি এম এ রাজ্জাক তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন। তিনি ছিলেন একাধারে চিত্রশিল্পী, শিল্প নির্দেশক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। শিল্পচর্চা ও পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁর জীবনকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

শিল্পী জি এম এ রাজ্জাক ১৯৪৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আছির উদ্দিন আহমেদ এবং মাতা মরহুমা আছিয়া খাতুন। নয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম।

পারিবারিক জীবনে তিনি বেগম আখতার বানুর জীবনসঙ্গী ছিলেন। তাঁদের পরিবারে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। ব্যক্তিজীবনে পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি শিল্প ও দেশের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতাও ছিল সুস্পষ্ট।

শিক্ষা জীবন

জি এম এ রাজ্জাকের শিক্ষাজীবন ছিল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন ও নানা অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ। তিনি প্রথমে কারেঙ্গাতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে নীলফামারী হাই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। অষ্টম শ্রেণিতে তিনি গোমনাতি হাই স্কুলে এক বছর পড়াশোনা করেন এবং নবম শ্রেণিতে পুনরায় নীলফামারী হাই স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৬৫ সালে তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। একই বছর তিনি ঢাকার চারু ও কারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। চারুকলার শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব ফাইন আর্টস (BFA) ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারী অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তিনিই প্রথম এই ডিগ্রি অর্জনকারী হিসেবে পরিচিত।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ জি এম এ রাজ্জাকের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং একজন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের বিভিন্ন তালিকাতেও তাঁর নাম উল্লেখ পাওয়া যায়।

একজন চারুশিল্পী হয়েও তিনি সেই সময় শুধু শিল্পচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। দেশের স্বাধীনতার প্রয়োজনে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামে যুক্ত হন। শিল্পীসমাজের যেসব সদস্য মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অস্ত্র হাতে অংশ নিয়েছিলেন, জি এম এ রাজ্জাক তাঁদের অন্যতম হিসেবে বিভিন্ন লেখায় উল্লেখিত হয়েছেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে কর্মজীবন

স্বাধীনতার পর জি এম এ রাজ্জাক তাঁর শিল্পীসত্তাকে পেশাগতভাবে কাজে লাগান। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) শিল্প নির্দেশক হিসেবে যোগদান করেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রযোজনার দৃশ্য পরিকল্পনা, সেট ডিজাইন এবং সামগ্রিক ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শিল্প নির্দেশনার ক্ষেত্রে তাঁর কাজের মধ্যে বাংলাদেশের লোকজ জীবন, গ্রামীণ পরিবেশ, মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত নান্দনিক উপাদানের ব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানের দর্শন ও পরিবেশ তৈরিতে শিল্প নির্দেশকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জি এম এ রাজ্জাক তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্প নির্দেশনা বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০০৯ সালে তিনি উপদেষ্টা শিল্প নির্দেশক হিসেবে কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

শিল্পীসত্তা ও সৃজনশীল কাজ

জি এম এ রাজ্জাকের শিল্পচর্চা শুধু টেলিভিশনের সেট ও দৃশ্য পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি চিত্রশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বইয়ের প্রচ্ছদ অঙ্কন, নকশা এবং বিভিন্ন স্মারকধর্মী শিল্পকর্মের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা পাওয়া যায়। শিল্পের মাধ্যমে ইতিহাস, দেশপ্রেম, লোকজ সংস্কৃতি ও বাংলাদেশের জীবনযাত্রার নানা দিককে তুলে ধরার প্রবণতা তাঁর কাজের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম ও নকশা

জি এম এ রাজ্জাকের সঙ্গে যেসব শিল্পকর্ম ও নকশার নাম যুক্ত করে তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

চিত্রশিল্প ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি

জি এম এ রাজ্জাকের জীবনকে আলাদা করে দেখার অন্যতম কারণ হলো তাঁর শিল্পী পরিচয় এবং মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার সমন্বয়। বাংলাদেশের শিল্পীসমাজের একটি অংশ ১৯৭১ সালে কখনো পোস্টার, ব্যানার, চিত্রকর্ম ও প্রচারণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিল, আবার অনেকে সরাসরি সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। জি এম এ রাজ্জাক ছিলেন সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া শিল্পীদের একজন।

মৃত্যু

দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম এ রাজ্জাক ২০২২ সালের ২ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৩ বছর।

স্মরণ ও উত্তরাধিকার

জি এম এ রাজ্জাকের জীবন বাংলাদেশের শিল্পীসমাজের এমন একটি অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে শিল্পচর্চা কেবল নান্দনিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দেশ, সমাজ ও ইতিহাসের সঙ্গেও শিল্পীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

একদিকে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে দীর্ঘ সময় শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন, অন্যদিকে ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তাঁর এই দ্বৈত পরিচয় তাঁকে নীলফামারী অঞ্চলের শিল্প ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

আপনার কাছে কি চিলাহাটির কোনো তথ্য আছে?

আপনার কাছে থাকা পুরোনো ছবি, দলিল, গল্প বা স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোন।