Nav-logo
Md Masum Ahmed

Md Masum Ahmed

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৭:০৩ পিএম

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া ছিলেন কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ডোমার উপজেলা পরিষদের দুই মেয়াদের সাবেক চেয়ারম্যান। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক জীবনে তিনি ডোমার ও কেতকীবাড়ী এলাকার উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন।

জীবনতথ্য

জন্ম

১ জানুয়ারি, ১৯৫০

মৃত্যু

১৬ মে, ২০২২

জন্মস্থান

কেকতিবাড়ি

পেশা

সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধি

সমাজসেবক

রাজনীতিবিদ

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া

পরিচিতি

ডোমার উপজেলা পরিষদের দুই মেয়াদের সাবেক চেয়ারম্যান

কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের পরপর তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান

জীবনী

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া ছিলেন নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধি। দীর্ঘদিন তিনি কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দুই মেয়াদে এলাকার জনসেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততার কারণে তিনি কেতকীবাড়ী ও ডোমার অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া ১৯৫০ সালে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ড. আফছার উদ্দীন বসুনিয়া।

পারিবারিকভাবে জনসেবা ও সমাজকল্যাণের পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তী জীবনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দীর্ঘ পথচলায় এই সামাজিক সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিক্ষা জীবন

আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া শিক্ষাজীবনে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে চিলাহাটি মার্চেন্টস হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি কর্মজীবনের পরিবর্তে জনসেবা ও স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান

জনপ্রতিনিধি হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়ার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে। তিনি পরপর তিনবার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন একই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর প্রতি স্থানীয় মানুষের আস্থারও প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।

ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান

ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া উপজেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর ২৩ মার্চ ২০০৯ তিনি শপথ গ্রহণ করেন এবং ২৫ মে ২০১৪ পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি পুনরায় ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি ২০১৯ সাল পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সময়ে এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবা ও উন্নয়নের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় অংশ এভাবেই যুক্ত ছিল।

রাজনৈতিক জীবন

আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন।

তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত স্থানীয় সরকার ও জনসেবাকেন্দ্রিক ছিল। কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ডোমার উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

জনসেবা ও সামাজিক অবদান

জনপ্রতিনিধি হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়ার কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন।

তাঁর দীর্ঘ জনপ্রতিনিধিত্বের সময় কেতকীবাড়ী ও ডোমার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের সমস্যা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড তাঁকে ডোমারের একজন পরিচিত জনপ্রতিনিধিতে পরিণত করে।

পারিবারিক জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া এক সন্তানের জনক ছিলেন। জনজীবনের ব্যস্ততার পাশাপাশি তিনি পারিবারিক জীবনেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

মৃত্যু

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক জীবনের অবসান ঘটে ২০২২ সালের ১৬ মে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ডোমার ও কেতকীবাড়ী এলাকার জনজীবনে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন মানুষের সঙ্গে কাজ করার কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।

স্মরণ ও উত্তরাধিকার

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়ার জীবন মূলত তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিত্ব ও জনসেবার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে পরপর তিনবার দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তীতে ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন তাঁর দীর্ঘ জনসম্পৃক্ততার পরিচয় বহন করে।

চিলাহাটি মার্চেন্টস হাই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও চিলাহাটির সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, রাজনীতি ও জনসেবার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ পথচলা ডোমার ও কেতকীবাড়ী এলাকার সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

আপনার কাছে কি চিলাহাটির কোনো তথ্য আছে?

আপনার কাছে থাকা পুরোনো ছবি, দলিল, গল্প বা স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোন।