
আ ত ম জহিরুল ইসলাম
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
আ. ত. ম. জহিরুল ইসলাম চিলাহাটির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যচর্চাকারী ও সমাজকর্মী। চিলাহাটি সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর অবদান এবং চিলাহাটি উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনে নেতৃত্ব স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।
জীবনতথ্য
জন্মস্থান
চিলাহাটি
পেশা
শিক্ষাবিদ
শিক্ষাবিদ
পরিচিতি
চিলাহাটি সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ
চিলাহাটি উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনে নেতৃত্ব
আ. ত. ম. জহিরুল ইসলাম চিলাহাটির শিক্ষা, সাহিত্যচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত একজন শিক্ষাবিদ। শিক্ষকতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি তিনি চিলাহাটিতে উচ্চশিক্ষার বিস্তারে ভূমিকা রেখেছেন এবং পরবর্তী সময়ে চিলাহাটিকে উপজেলা করার দাবিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। চিলাহাটি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর নাম স্থানীয় শিক্ষা ইতিহাসের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত।
আ. ত. ম. জহিরুল ইসলামের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৫৫ সালে তিনি এই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। পরবর্তীতে অষ্টম শ্রেণিতে তিনি পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি তৎকালীন রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করলেও ছোটবেলা থেকেই তাঁর সাহিত্যের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। ছাত্রজীবনেই তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়।
তৎকালীন ‘All Pakistan Literary Competition’-এ কবিতা বিভাগে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন বলে তাঁর জীবনীসংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর লেখা ‘একটি ফুল, একটি পাখী’ কবিতাটিও সে সময় বিদ্যালয় ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল। ছাত্রজীবনের এই সাহিত্যচর্চা পরবর্তী জীবনেও তাঁর মনন ও ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলেছিল।
১৯৬৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করার পর আ. ত. ম. জহিরুল ইসলাম তাঁর নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
তাঁর সাহিত্যচর্চা ও কবিতার প্রতি আগ্রহের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ-উল ইসলামের অনুরোধে তিনি নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা পড়াতেন।
তাঁর পাঠদানের ধরন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছিল বলে তাঁর স্মৃতিচারণে জানা যায়। শিক্ষার্থীরা তাঁর ক্লাসের প্রতি এতটাই আগ্রহী ছিল যে, অন্য শিক্ষকের ক্লাসে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করত। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই পাঠদান বন্ধ করে দেন।
এই স্বল্পকালীন শিক্ষকতা তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করলেও চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সেই সময়ের স্মৃতি তিনি পরবর্তী জীবনেও ধরে রেখেছিলেন।
চিলাহাটিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে আ. ত. ম. জহিরুল ইসলামের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৩ সালে চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বাংশে পরিত্যক্ত তিনটি কক্ষে চিলাহাটি সরকারি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে তিনি এর প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে একটি নতুন কলেজের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা, শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর ওপর পড়ে। প্রায় তিন বছর তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি সুদৃঢ় করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি চিলাহাটি সরকারি কলেজ নামে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে কলেজটির প্রাথমিক পর্যায়ের ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর নাম তাই ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
আ. ত. ম. জহিরুল ইসলামের কাছে শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা ছিল না; শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলাও ছিল তাঁর শিক্ষকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাঁর অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষকতা, প্রশাসন, রাজনীতি ও অন্যান্য পেশায় প্রতিষ্ঠিত হন।
শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি আ. ত. ম. জহিরুল ইসলাম চিলাহাটির প্রশাসনিক উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি চিলাহাটি উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৯ সালে চিলাহাটিকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তাঁকে উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির সভাপতি এবং চিলাহাটি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সে সময় তিনি চিলাহাটি থেকে ডোমার উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার এবং ভোগডাবুড়ি, কেতকীবাড়ী, জোড়াবাড়ী ও গোমনাতী ইউনিয়নকে নিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এই আন্দোলনের মাধ্যমে চিলাহাটির প্রশাসনিক গুরুত্ব ও স্থানীয় মানুষের উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবিকে সামনে আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
শিক্ষকতার পাশাপাশি আ. ত. ম. জহিরুল ইসলামের সাহিত্যচর্চার সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল। ছাত্রজীবনে কবিতা প্রতিযোগিতায় সাফল্য এবং বিদ্যালয় ম্যাগাজিনে তাঁর কবিতা প্রকাশ তাঁর সাহিত্যিক আগ্রহের প্রাথমিক পরিচয় বহন করে।
পরবর্তী জীবনেও তিনি সাহিত্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ পাওয়া যায়। চিলাহাটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের কথাও পাওয়া যায়। একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে তাঁকে চিলাহাটি সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পর আ. ত. ম. জহিরুল ইসলাম অবসর জীবনযাপন করছেন। চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছাকাছি তাঁর নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোলাহল ও পরিচিত পরিবেশ তাঁর কর্মজীবনের পুরোনো স্মৃতিকে এখনও মনে করিয়ে দেয়।
চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু, সেই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, পরবর্তীতে চিলাহাটি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সব মিলিয়ে তাঁর জীবন চিলাহাটির শিক্ষা ও সামাজিক ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।
আপনার কাছে থাকা পুরোনো ছবি, দলিল, গল্প বা স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোন।

