
মোঃ ছকিকুল আলম
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মোঃ ছকিকুল আলম, যিনি ‘খোকন চেয়ারম্যান’ নামে পরিচিত ছিলেন, ছিলেন ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের দুই মেয়াদের সাবেক চেয়ারম্যান। চট্টগ্রাম রেলওয়ের চাকরি ছেড়ে জনসেবায় যুক্ত হয়ে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেন।
জীবনতথ্য
জন্ম
৩০ জুন, ১৯৪৭
মৃত্যু
১৭ অক্টোবর, ২০১২
জন্মস্থান
কাওলা চৌরাস্তা
পেশা
জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবক
সরকারি কর্মকর্তা
সমাজসেবক
পরিচিতি
খোকন চেয়ারম্যান
চিলাহাটির কৃতি ব্যক্তিত্ব
মোঃ ছকিকুল আলম
সাবেক চেয়ারম্যান
মোঃ ছকিকুল আলম, যিনি স্থানীয় মানুষের কাছে ‘খোকন চেয়ারম্যান’ নামে পরিচিত ছিলেন, ছিলেন নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের একজন পরিচিত জনপ্রতিনিধি ও জনমুখী ব্যক্তিত্ব। চিলাহাটি ও ভোগডাবুড়ী অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনসম্পৃক্ততা তাঁকে স্থানীয়ভাবে পরিচিত করে তোলে। জনসাধারণের বিভিন্ন সমস্যা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়ভাবে স্মরণ করা হয়।
মোঃ ছকিকুল আলম ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক ছিলেন ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত সমাজসেবী। তাঁর মাতা ছিলেন আমেনা খাতুন।
পারিবারিকভাবেই জনসেবা ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়। পরবর্তী জীবনে তিনিও জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন।
ছকিকুল আলমের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে নীলফামারী সরকারি কলেজে। তিনি নীলফামারী সরকারি কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি কলেজের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেন বলে স্থানীয়ভাবে উল্লেখ পাওয়া যায়।
উচ্চশিক্ষার এই অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাভাবনা গঠনে ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে জনজীবনে তাঁর যোগাযোগ ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা কাজে আসে।
শিক্ষাজীবন শেষে ছকিকুল আলম কর্মজীবনে প্রবেশ করেন চট্টগ্রাম রেলওয়ের চাকরির মাধ্যমে। সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ এবং জনসেবার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে পরবর্তীতে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে তিনি রেলওয়ের চাকরি ছেড়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। এরপর তাঁর জীবনের প্রধান কর্মক্ষেত্র হয়ে ওঠে স্থানীয় জনসেবা ও জনপ্রতিনিধিত্ব।
রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার পর ছকিকুল আলম ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি দুই মেয়াদে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কাল ছিল—
দীর্ঘ সময় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ফলে ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে। স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
মোঃ ছকিকুল আলম স্থানীয় মানুষের কাছে ‘খোকন চেয়ারম্যান’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে চিলাহাটি ও ভোগডাবুড়ী এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে এই পরিচিতি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল।
স্থানীয় স্মৃতিচারণে তাঁকে মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা এবং দরিদ্র মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়ভাবে স্মরণ করা হয়।
ছকিকুল আলমের ব্যক্তিত্বের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা এবং স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা রাখা। সততা, সাহস এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা তাঁর ব্যক্তিজীবনের বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্থানীয়ভাবে স্মরণ করা হয়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ছকিকুল আলমের দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় অবকাঠামো, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে তিনি কাজ করেন।
তাঁর জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশ ছিল মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা। স্থানীয় মানুষের সমস্যা শোনা, সামাজিক উদ্যোগে অংশ নেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে তিনি এলাকায় একটি পরিচিত জনমুখী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে মোঃ ছকিকুল আলম ২০১২ সালের ১৭ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ভোগডাবুড়ী ও চিলাহাটি অঞ্চলের স্থানীয় জনজীবনে একজন পরিচিত জনপ্রতিনিধির অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে তিনি পরবর্তীকালেও স্থানীয় মানুষের স্মৃতিতে ‘খোকন চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকেন।
আপনার কাছে থাকা পুরোনো ছবি, দলিল, গল্প বা স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোন।

